কেন ফ্রি টাকা ইনকাম করা সম্ভব নয়?

আমরা অনলাইন থেকে ফ্রি অর্থ আয় করতে চাই। ফ্রি বলতে কোন অর্থ ইনভেস্ট না করে কাজ করে আয় করা। কিন্তু আপনি যদি একটু চিন্তা করে দেখেন আসলে কোন কিছু ফ্রি তে হয় না।

কারন আপনার মোবাইলে ব্যবহার করা ডাটা টি টাকা দিয়ে ক্রয় করা। হ্যাঁ আপনি বলতে পারেন টাকা না দিয়ে কাজ করে কিভাবে অর্থ ইনকাম করা যায়।

এই লেখাটি আপনাকে সহযোগিতা করবে বুঝতে যে কোন কিছু অনলাইনে ফ্রি হয় না। আপনি প্রতেক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে অর্থ দিয়ে কাজ করেন।

অর্থ দিয়ে মেম্বার হয়ে অর্থ ইনকাম করার সুযোগ কোন কোম্পানি দিয়ে থাকলে আপনি সরাসরি না বলে দিন। কারন এই সকল কোম্পানির ১০০% ভুয়া।

Free Online Income

ফ্রিল্যান্সিং

আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে অর্থ আয় করতে চাচ্ছেন। ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে ইনভেস্ট করতে হবে। যা যা ইনভেন্সট করতে হবে।

  • কম্পিউটার বা ল্যাপটপঃ ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য আপনাকে অবশ্যই একটি ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ক্রয় করতে হবে। কারন ফ্রিল্যান্সিং ল্যাপটপ বা পিসি ছারা করতে পারবেন না।
  • ডাটা কানেকশনঃ আপনাকে ওয়াই-ফাই নিতে হবে। মাঝে মাঝে আপনাকে ডাটা ক্রয় করে ইন্টারনেট চালাতে হবে।
  • ফ্রিল্যান্সিং কোর্সঃ ফ্রিল্যান্সিং শুরুর প্রথম অবস্থায় অবশ্যই আপনাকে কোর্স করতে হবে। কোর্স করা ব্যাতিত আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে সফল হতে পারবেন না।

কন্টেন্ট ক্রিয়েটর

অনলাইন থেকে আয় করার সব থেকে ভালো উপায় হচ্ছে কন্টেন্ট ক্রিয়েট করা। ভিডিও, অডিও, ছবি, আর্টিকেল, আপনি যে ধরনের কন্টেন্ট তৈরি করেন না কেন। আপনি একজন ক্রিয়েটর হয়ে থাকলে আপনার জন্য বিপুল সম্ভবনা রয়েছে ইন্টারনেট জগতে।

ইউটিউবঃ আপনি ভালো ভিডিও শুট করতে পারলে একজন ইউটিউবার হতে পারেন। ইউটিউবে চ্যানেল ওপেন করা থেকে শুরু করে সকল কিছু আপনি ফ্রি করতে পারবেন। কিন্তু আপনি ইউটিউব একদিনে সফল হতে পারবেন না। ইউটিউবে সফল হওয়ার জন্য ধৈর্য্য এবং অর্থ দুইটির দরকার আছে।

একজন প্রোফেশনাল ইউটিউবার হতে গেলে কি কি লাগবেঃ

  • একটি ভালো মানের ক্যামেরা ফোন বা DSLR । অথবা আপনি চাইলে মধ্য মানের action ক্যামেরা নিতে পারেন। মিনিমান বাজেট রাখতে হবে ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ হাজার টাকা।
  • ভিডিও এডিটিং করা যায় এমন একটি পিসি ক্রয় করতে হবে। মিনিমাম বাজেট ২৫,০০০ থেকে ৩৫,০০০ হাজার টাকা।
  • পেইড ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার। মিনিমাম বাজেট ২০০ ডলার। ( আপনি চাইলে ফ্রি ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার দিয়ে কাজ করতে পারবেন )
  • একটি মোবাইল ফোন বা ভিডিও স্টান্ড। বাজেট ১,০০০ থেকে ২,০০০ হাজার টাকা।
  • মাইক্রো ফোন ভয়েস রেকর্ড করার জন্য। বাজেট ৮,০০ থেকে ১,০০০ হাজার টাকা।
  • প্রতিদিন আপনাকে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের জন্য ৩ থেকে ৪ ঘন্টা ব্যয় করতে হবে।

এবার আপনি বলুন ইউটিউব থেকে আয় করতে চাইলে কি ফ্রি করা সম্ভব।

ব্লগিংঃ আপনি আমার মত একজন ব্লগার হতে চান। ওকে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু এই ব্লগিং আপনি ফ্রি করতে পাবেন না। হ্যাঁ আপনি চাইলে ওয়েব ২.০ ওয়েবসাইটে একটি ফ্রি ব্লগ তৈরি করে প্রাকটিস করতে পারেন। কিন্তু প্রোফেশনাল ব্লগিং করতে চাইলে আপনাকে যা যা করতে হবে।

  • একটি ডোমেইন ক্রয় করতে হবে। ডোমেইন প্রাইস ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে যেমন ডট কম ডোমেইন বর্তমানে প্রতি বছর ভাড়া ১,০০০ হাজার টাকা। ( ডোমেইন হল ওয়েবসাইট বা ব্লগের ঠিকানা। যেমন এই ব্লগটির ঠিকানাটি হচ্ছে lalitroy.com )
  • হোস্টিং স্পেস ক্রয় করতে হবে। মানে, আপনার ওয়েবসাইটের বিভিন্ন ধরনের ডকুমেন্ট, ফাইল, ছবি ইত্যাদি সাবজেস্ট গুলো যেখানে জমা থাকবে। তার জন্য আপনাকে হোস্টিং ক্রয় করতে হবে। হোস্টিং প্রাইস নির্ভর করে আপনি কত জিবি স্পেস ক্রয় করবেন তার উপর।
  • ব্লগ কাস্টমাইজ করার জন্য অন্য সকল দরকারি টুল এবং থিম আপনি ফ্রি পাবেন। আপনি চাইলে পেইড থিম ব্যবহার করতে পারেন। পেইড থিম Themeforest থেকে ক্রয় করতে পারেন।
  • ব্লগটি আয় করার উপযোগি করার জন্য আরর্টিকেল লিখতে হবে। আপনি বর্তমানে যে আর্টিকেল টি পড়ছেন এটা কে আর্টিকেল বলে। লেখার ধরন হতে পারে, খাওয়া দাওয়া, ঘুড়ে বেড়ানো, ফ্যাশান, নিউজ, বিভিন্ন বিষয়ে টিপস, ইত্যাদি।
  • এছাড়া আপনাকে বেসিক এসইও বিষয় ধারনা থাকতে হবে যেমন সাইট ম্যাপ সাবমিশন, গুগল ইনডেক্স, টাইটেল, হাইপারলিংক, এইচ২ টাইটেল, ব্লগ পোষ্টের আইডিয়া, ইত্যাদি।

সোস্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারঃ সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নিজের জনপ্রিয়তা সৃষ্টি করে অনলাইন থেকে ইনকাম করা। উদাহরন সরূপ, আপনি খুব ভালো ফানি ভিডিও তৈরি করতে পারেন এবং আপনার একটি ফেসবুক পেজ আছে। আপনার ফেসবুক পেজে প্রায় কয়েক লক্ষ ফলোয়ার আছে।

আপনি নিজের পেজের মাধ্যমে স্পন্সার পোষ্ট, পন্য বিক্রয় করে আয় করতে পারবেন। আপনি সোস্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হওয়ার জন্য ফেসবুক পেজ, ইন্সটাগ্রাম, টুইটার ইত্যাদি সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম গুলো ব্যবহার করতে পারেন।

সোস্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হওয়ার জন্য কি কি করা দরকার

  • আপনার প্রোফাইলে প্রতিনিয়ত ভিডিও, ছবি, পোষ্ট করতে হবে।
  • ফলোয়ারদের সাথে একধরনের সম্পর্ক তৈরি করুন।
  • প্রতিমাসে বা সপ্তাহে লাইফ করুন।

নোটঃ সোস্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হওয়ার জন্য আপনার মিনিমাম কোয়ালিটির অ্যান্ডয়েড মোবাইল ফোন থাকা দরকার।

ফ্রি অ্যান্ডয়েড অ্যাপস দিয়ে ইনকাম

দেখুন অ্যাপস দিয়ে আয় করা যায় না। অ্যাপ দিয়ে পকেট খরচ আয় করা যায়। তারপরেও কত রকম সমস্যার সৃষ্টি হয় তার কোন ঠিক নেই। কিছু রিয়েল মোবাইল অ্যাপ আছে যে গুলো দিয়ে কি অর্থ আয় করা সম্ভব। তাছাড়া অন্য সকল অ্যাপস ভুয়া হয়ে থাকে।

এবং অ্যানড্রেয়েড অ্যাপ ব্যবহার করার জন্য আপনাকে ডাটা বা ওয়াইফাই ব্যবহার করতে হবে, যা আপনি ফ্রি পাবেন না।

হ্যাঁ আপনি একটি কাজ করতে পারেন। অ্যাপস তৈরি করে গুগল প্লে স্টোরে পাবলিশ করে শর্ত সাপেক্ষে

Googel ADMob থেকে ইনকাম করতে পারবেন।

এবং অ্যাপ তৈরি করে গুগল এডমুব থেকে ইনকাম করার জন্য আপনাকে অর্থ ইনভেস্ট করতে হবে। অ্যাপ তৈরি এবং পাবলিশ করার জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়।

সতর্কতাঃ গেম খেলে অর্থ আয় করার যায় এমন অ্যানড্রেয়েড অ্যাপের সাথে নিজেকে কখনো জড়াবেন না। কারন এই ধরনের এই অ্যাপ গুলো মানুষের সাথে প্রতারনা করে থাকে। 

শেষ কথা

সকল কথার শেষ কথা হচ্ছে অনলাইন থেকে ইনকাম করার অবশ্যই আপনাকে আপনার মূল্যবান সময়, অর্থ দুইটি বিষয় ইনভেস্ট করতে হবে।

আপনি যতই গুগলে সার্চ দিয়ে পড়েন যে ফ্রি অর্থ ইনকাম করার উপায় তারপরেও কোন কাজ হবে না। হ্যাঁ অনেক ব্লগার তাদের ব্লগের বলবে যে আপনি ফ্রি আয় করতে পারবেন কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভাবে ভিন্ন।

আশা করেছি আপনি আমার কথাটি বুঝতে পেরেছেন ধন্যবাদ।

বি.দ্রঃ

অনলাইনে থেকে আয় করার সব থেকে ভালো মাধ্যম হল দুইটি —–

  • ক্রিয়েটর ( ব্লগিং, ইউটিউবিং, ইনফ্লুয়েন্সার ইত্যাদি )
  • ফ্রিল্যান্সিং ( কাজ শিখে ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্ম গুলো থেকে আয় করা )

এবং অনলাইনে ফ্রি ইনকাম বলতে কোন কিছু হয় না।

This div height required for enabling the sticky sidebar